গাজীপুরে আট মাস আগে একটি মানববন্ধন চলাকালে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল স্থানীয় সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপন ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে। আট মাস পর এবার নিজেই হামলার শিকার হয়েছেন মহিউদ্দিন রিপন। তাঁর ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ)।
এদিকে আট মাস আগের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে নিজের ফেসবুক পোস্টে একাধিক অভিযোগ করেছেন দৈনিক মাতৃভূমির খবর-এর প্রতিবেদক জিএম রাশেদ। তাঁর দাবি, ওই সময় গাজীপুরে একটি মানববন্ধনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্যোগ নেন।
জিএম রাশেদের ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, প্রায় আট মাস আগে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় একটি জমি দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। ওই জমিতে উদয়নের একজন অধ্যক্ষ তাঁর মায়ের নামে হাসপাতাল ও দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। জমি দখলের প্রতিবাদে একটি মানবাধিকার সংগঠন ওই কর্মসূচির আয়োজন করেছিল বলে তাঁর দাবি।
রাশেদ জানান, অফিসের অ্যাসাইনমেন্টে সংবাদ সংগ্রহ করতে ঢাকা থেকে গাজীপুরে যান তিনি। সেখানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখতে পান। তবে মানববন্ধন চলাকালে একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিজের ফেসবুক পোস্টে জিএম রাশেদ অভিযোগ করেন, মহিউদ্দিন রিপনের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক মাল্টিমিডিয়া সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হন। এ সময় সাংবাদিকদের বেঁধে রাখা ও গাড়িতে তুলে নেওয়ার মতো কথাও বলা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশেদ আরও দাবি করেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের কার্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে মহিউদ্দিন রিপনের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। পরে রিপন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে নিজের পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
জমি দখল ও চাঁদাবাজিতে প্রশ্রয়ের অভিযোগ
ফেসবুক পোস্টে জিএম রাশেদ আরও অভিযোগ করেন, যে জমিকে কেন্দ্র করে মানববন্ধন হয়েছিল, সেখানে একটি স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের কার্যালয় রয়েছে। সংগঠনটির নাম মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে পোস্টে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এ ছাড়া ওই এলাকায় একটি চক্রকে চাঁদাবাজির কাজে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও মহিউদ্দিন রিপনের বিরুদ্ধে তুলেছেন রাশেদ। তবে জমির মালিকানা, সেখানে সাংবাদিক সংগঠনের কার্যালয় স্থাপনের বৈধতা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অন্যান্য সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
রিপনের ওপর হামলার প্রতিবাদ এমআরইউর
জিএম রাশেদের ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, মহিউদ্দিন রিপনের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ)। সংগঠনটি এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাশেদ তাঁর পোস্টে এমআরইউর এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তি সংগঠনটির সদস্য না হলেও অন্যায়ের শিকার হলে তাঁর পাশে দাঁড়ানো একটি সংগঠনের দায়িত্ব।
তবে একই সঙ্গে আট মাস আগে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর সংগঠনটির পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো প্রতিবাদ তাঁর নজরে আসেনি বলে দাবি করেন তিনি। ওই সময় হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মূলধারার গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মী এবং এমআরইউর সদস্যও ছিলেন বলে তাঁর অভিযোগ। এ বিষয়ে সংগঠনটির বক্তব্য জানা গেলে ঘটনার প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হবে।
সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
জিএম রাশেদ তাঁর ফেসবুক পোস্টে মহিউদ্দিন রিপনের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আট মাস আগে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগেরও তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি।
রাশেদের বক্তব্য, অতীতে কারও বিরুদ্ধে অন্যায়ের অভিযোগ থাকলেও তাঁর ওপর হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। একইভাবে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ দখলদারত্ব, চাঁদাবাজি কিংবা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ এবং সাংবাদিকতার পরিচয়ের অপব্যবহারের মতো বিষয়গুলোতে নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ন্যায়বিচারের প্রশ্নে ব্যক্তি, পদ-পদবি কিংবা সংগঠনের সদস্যপদ বিবেচনা না করে সব অভিযোগের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রতিবাদ জানানো জরুরি।




















