চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়াকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, ফলাফলের এমন পতন বা বিপর্যয় কখনোই প্রশংসনীয় হতে পারে না।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার তা কমে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে নেমেছে। পাসের হারের এ পতন সন্তোষজনক নয়। এতে শিক্ষার্থীদের শিখন-অর্জনের ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর দায় চাপালে হবে না। শিক্ষক, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের শিখন-অর্জন, পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষার পরিবেশের ঘাটতি চিহ্নিত করে তা দূর করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকটের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরের নিয়োগসংক্রান্ত জট রয়েছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি পর্যায়ের কলেজ—সব জায়গায় শিক্ষকের সংকট রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বিগত দিনের শিক্ষকসংকটও রয়েছে, আমাদের নিয়োগ দেওয়ার বাধা রয়েছে। অর্থাৎ এত শিক্ষক একসঙ্গে নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না, পিএসসি দিতে পারছে না। গত ১৭ বছরের ব্যাকলগ রয়েছে।’
শিক্ষকসংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংকটগুলো আমরা মেটানোর চেষ্টা করছি, খুব সিরিয়াসলি করছি। কিন্তু সিস্টেমের কারণে এটাই বিলম্বিত হচ্ছে।’
এর আগে শনিবার বেলা ১১টায় একযোগে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সে হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।




















