সাভারের আশুলিয়াতে জুলাই-অগাস্ট গণআন্দোলনের সময় ছয়টি লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয়ে জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
রোববার ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি এম তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আরও ৩৪টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, “ঈদের পর এসব মামলার তদন্ত প্রতিবেদনও আমাদের হাতে চলে আসবে। প্রতিবেদনগুলোর পর্যালোচনা করে আমরা আনুষ্ঠানিক চার্জ দাখিল করব এবং বিচার শুরু হবে।”
আশুলিয়ায় ছাত্র আন্দোলনকারীদের হত্যার পর তাদের লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিযুক্ত ৩০ জনের তালিকায় রাখা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সাত আসামির নির্দেশে এবং তাদের পরিকল্পনায় অন্য আসামিরা নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা এবং লাশ পুড়িয়ে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে।
এদের মধ্যে সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ আরও অনেক ব্যক্তি আছেন।
প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম বলেন, “দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের সুযোগ রয়েছে, তবে এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা সম্ভব। তবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হল অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা।”
তিনি আরও বলেন, “বিচারের প্রক্রিয়া সহজ নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে অপরাধের তদন্ত জটিল এবং এটি সঠিকভাবে করতে সময়ের প্রয়োজন। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুততম সময়ে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে।”
তিনি হতাশাব্যঞ্জক মন্তব্য না করার জন্যও আহ্বান জানান এবং নিশ্চিত করেন যে, বিচারের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তা করা হবে।













