স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ।
এর ফলে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের নির্ধারিত সময়সীমা ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ল।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। বর্তমান সরকারের জন্য এটিকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর ফলে অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-সম্পর্কিত বাণিজ্যসুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা হারানোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ অতিরিক্ত সময় পাবে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আহরিন জুবাইদা খান বলেন, “বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ করছে শুধু আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার কারণে নয়, বরং উত্তরণ আমাদের জনগণের আকাঙ্ক্ষা। এটি একটি জাতীয় অপরিহার্যতা এবং আমাদের সরকার এ লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
নতুন সরকার গঠনের পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন করে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে এ আবেদন করা হয়।
এর আগে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) বাংলাদেশের আবেদনের পক্ষে সুপারিশ করে। পরে গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠায়।
আবেদনের পক্ষে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ তিন বছরের একটি কর্মপরিকল্পনাও প্রণয়ন করে। এতে প্রতি বছরের জন্য নির্দিষ্ট কর্মসূচি ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্ধিত সময়ে কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতিরিক্ত সময়কে কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগিতামূলক, বহুমুখী ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার পাশাপাশি এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্ধিত এই প্রস্তুতিকাল শুধু উত্তরণের সময় পেছানোর সুযোগ নয়; বরং অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে একটি আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার সময় হিসেবেও কাজে লাগানো হবে।
একই সঙ্গে রপ্তানি বাজার ও পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ এলডিসি-উত্তরণের সঙ্গে সম্পর্কিত সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আরও তিন বছর সময় পেল। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি বাস্তবায়ন করে উত্তরণকে টেকসই করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।




















