দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সাশ্রয়ী দামে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিমালা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান আইসিটি সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা।
তিনি বলেন, দেশে ফিচার ফোনের সর্বনিম্ন দাম প্রায় ৯৯৯ টাকা। অন্যদিকে স্মার্টফোনের সর্বনিম্ন দাম প্রায় ১০ হাজার টাকা। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সরকার স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে।
হুয়াওয়ের অংশীদারত্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশের ডিজিটাল সংযোগ, প্রযুক্তির রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ডিজিটাল সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের যুক্ত করতে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য ব্রডব্যান্ড এবং টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি শিল্প ও নাগরিক সেবার মান বাড়াতে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এআইয়ের সুফল পেতে কম্পিউটিং ও ডেটা সক্ষমতা বাড়ানো, দক্ষ জনবল তৈরি এবং সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল সক্ষমতায় বাংলাদেশ বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে প্রায় ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ ও এর কার্যকর ব্যবহারের মধ্যকার ব্যবধান কমানো বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, অর্থপূর্ণ সংযোগ, নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক, চাহিদাভিত্তিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে সরকারের কর্মপরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট জেসন উ বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার এবং শিল্পখাতের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হুয়াওয়ে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের যুগ্মসচিব সাইদা আফরোজ।




















