বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মোঃ আলী হোসেন ফকির বলেছেন, বিগত ১৭ বছর সরকারিভাবে প্যাট্রোনাইজ করে দেশের পাড়ায় পাড়ায় মাদকের আখরা তৈরি করা হয়েছে।এটা কে নির্মুল করবে। দেশে পুলিশের সংখ্যা মাত্র ২ লক্ষ ১৫ হাজার, আমরা এই বছরে ২০ হাজার লোক নিয়োগ দিব। কিন্তু আমাদের এক সাথে ২০ হাজার লোককে প্রশিক্ষন দেওয়ার মত জায়গা নেই।
তিনি বলেন, এখন নতুন প্রশিক্ষন কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। একটা এটকা দেশের উন্নয়নের জন্য কোন শর্টকার্ট ভূমিকা নেই্। আপনারা সবাই মিলে যদি সরকারকে সহযোগিতা না করেন, তাহলে দেশ আগাবে না। দেশের শান্তি-সম্মৃদ্ধি উন্নয়নের জন্য, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সকলে মিলে কাজ করব।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, দূর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদ বিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, দূর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদ প্রতিরোধে নানা নির্দেশনা দেন পুলিশ প্রধান মোঃ আলী হোসেন ফকির।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি জেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত থাকবে। আপনারা জানেন কার ছেলে কি করে। তাই আপনাদের তথ্যের মাধ্যমেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরত্ব কমবে। সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে দক্ষ সাইবার ইউনিট গঠন করা হয়েছে। যারা গুজব ও মব প্রতিরোধে কাজ করবে বলে জানান আইজিপি।
দেশে যুবকদের অপরাধে জড়ানোর কারণ হিসেবে বেকারত্বকে দায়ী করে আলী হোসেন ফকির বলেন, প্রতিবছর দেশে ২৭ লক্ষ বেকার যোগ হচ্ছে। এদের ভিতরে হতাশা, এদের ভিতর যে জীবনী শক্তি আছে তা আমরা ব্যবহার করতে পারছি। ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ করছে না। তারা টাকা ব্যংকে রেখে দিচ্ছে। বিনিয়োগ না আসলে কর্মসংস্থান তেরি হবে না।
মাদকের সাথে জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, “গত দুই মাসে আমি ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি মাদকের কারণে। আগে ঘর পরিষ্কার হোক, তারপরে আপনারা পরিষ্কার হবেন। তবে মাদকের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সকলকে সহযোগিতা করার আহবান জানান পুলিশ প্রধান।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে আইজিপি বলেন, “গুজব, আপা আসবে, কে আসবে আর না আসবে, তা নিয়ে আমাদের প্রশাসনের, কমিউনিটি পুলিশের কোন ভাবনা নেই।”
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোঃ জামিলুর ইসলামের সভাপতিত্বে সভায়, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ রেজাউল করিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন, সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মিসেস পারভীন আক্তার, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনু, হিন্দু বৈধ্য খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রদীপ বসু শন্তুসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, দূর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।