প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৮, ২০২৬, ১১:২৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২০, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবে শিরচ্ছেদের খবর, মেয়ের সন্ধানে টাঙ্গাইলে উদ্বিগ্ন পরিবার

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশীর শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মেয়ে সুইটি আক্তারের খোঁজে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে টাঙ্গাইলের একটি পরিবার। ছড়িয়ে পড়া ছবির একজনকে সুইটি বলে দাবি করছেন তার স্বজনেরা। তবে সুইটি আক্তার ওই ঘটনায় জড়িত কি না, কিংবা বর্তমানে তার কী অবস্থা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সুইটি আক্তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী চরপাড়া গ্রামের ফজলু মিয়ার ছোট মেয়ে। দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের পর ২০২৩ সালে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান তিনি। স্বজনদের দাবি, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ দেয়ার কথা বলে তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। এ জন্য নতু মিয়া নামের এক দালালকে দেড় লাখ টাকা দেয়া হয়েছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবের মক্কায় আল মাজাল আল আরবি গ্রুপ কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন সুইটি। দেশটিতে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর তিনি গ্রেপ্তার হন। তবে তার গ্রেপ্তারের খবর পরিবার জানতে পারে প্রায় এক বছর পর। মুঠোফোনে সুইটি নিজেই পরিবারকে আটকের বিষয়টি জানান।
সুইটি পরিবারকে জানিয়েছিলেন, মারামারির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবে থাকা তার এক বান্ধবীর কাছ থেকে পরিবার জানতে পারে, এক বাংলাদেশী যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার গ্রেপ্তারের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিবারের কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে মেয়ের পরিণতি নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে মা-বাবার। মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা জহুরা বেগম। আর মেয়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন বাবা ফজলু মিয়া।
ফজলু মিয়া বলেন, গত ১৩ অক্টোবর সকালে মেয়ের সঙ্গে তাদের সর্বশেষ কথা হয়। তখন সুইটি জানিয়েছিলেন, আড়াই মাসের মধ্যে দেশে ফিরবেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরচ্ছেদের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে তাদের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। এখন মেয়ের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা সুইটির বিষয়ে দ্রুত নিশ্চিত তথ্য জানার দাবি জানিয়েছেন। তিনি জীবিত থাকলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা এবং মৃত্যুর খবর সত্য হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সুইটির শিরচ্ছেদের ঘটনায় জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হতে খোঁজ নেয়া হচ্ছে।
Copyright © 2026 Ajker Dhara 24. All rights reserved.