প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৮, ২০২৬, ১১:২৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১২, ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
মেয়েদের বিয়ের বয়স কমাতে রাজনৈতিক নেতারা তদবির করছেন: ববি হাজ্জাজ

দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়সসীমা কমানোর জন্য তদবির করছেন বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়সসীমা কতটা কমানো যায়, তা নিয়ে তদবির করছেন। এ বিষয়ে তাদের অবস্থান ও চাওয়ার পেছনে কী যুক্তি রয়েছে, তা জ্ঞানভিত্তিকভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করাও সরকারের দায়িত্ব। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার জনগণকে সঠিক তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে।
বিয়ের বয়স নিয়ে ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় চার হাজার বছর আগের মিসর এবং আড়াই হাজার বছর আগের গ্রিসের বিয়ের বয়সসংক্রান্ত ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে বর্তমান সময়ের বাস্তবতা তুলনা করা প্রয়োজন। ২০২৬ সালে রোবটিকসের যুগে এসেও মেয়েদের বিয়ের বয়স কতটা কমানো যায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা হওয়ায় প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নারীর টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শুধু পেশাগত প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানের সুযোগ যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, নারীর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, যোগাযোগদক্ষতা অর্জন, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং পরিবার ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে পরিবারের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ, সামাজিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মেয়েদের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বাড়ানো গেলে নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও বাড়বে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে পরিবারকে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। ববি হাজ্জাজ বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে আইনগত সুরক্ষা ও সচেতনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্কর। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
Copyright © 2026 Ajker Dhara 24. All rights reserved.