প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৮, ২০২৬, ১১:২৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
পল্লী বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল আরেক ভাইয়ের

ময়মনসিংহের ভালুকায় কৃষিজমিতে কাজ করতে গিয়ে পল্লী বিদ্যুতের ছিঁড়ে পড়া তারে জড়িয়ে চাচাতো দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের খারুয়ালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন মৃত আজিজ আকন্দের ছেলে মো. শাহাবুদ্দিন আকন্দ (৬১) এবং মজিদ আকন্দের ছেলে মো. ধনু আকন্দ (৫৮)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ধনু আকন্দ কৃষিজমিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেখানে আগে থেকেই পল্লী বিদ্যুতের একটি সার্ভিস তার ছিঁড়ে পড়ে ছিল। সেই তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। এ সময় পাশের রাস্তা দিয়ে আসার পথে ছোট ভাইকে ধানখেতে পড়ে থাকতে দেখে দৌড়ে যান শাহাবুদ্দিন আকন্দ। তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে স্পর্শ করা মাত্রই শাহাবুদ্দিনও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন সেখানে ছুটে যান। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে তারা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি বলে অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের। দীর্ঘক্ষণ পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে এলাকাবাসী তাঁদের উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শাহাবুদ্দিন আকন্দের ছেলে সাঈদ আকন্দ বলেন, 'আমার বাবা ভালুকা বাজার থেকে ফিরছিলেন। অটো থেকে নেমে ধনু কাকাকে মাঠে পড়ে থাকতে দেখে তিনি দৌড়ে যান। তাঁকে ধরতেই বাবাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।'
বিদ্যুৎ অফিসের গাফিলতির অভিযোগ তুলে সাঈদ আকন্দ আরও বলেন, 'প্রায় আধাঘণ্টা ধরে একাধিকবার কল করার পর তারা ফোন ধরে, কিন্তু তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। উল্টো বারবার কল কেটে দিচ্ছিল। বিদ্যুৎ অফিস দ্রুত লাইন বন্ধ করে দিলে দুজন মানুষ হয়তো বেঁচে যেতেন। আমার বাবা ও চাচার মতো আর কারও যেন এভাবে মৃত্যু না হয়।'
ভালুকা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন পাঠান বলেন, প্রতিদিনের মতোই ধনু আকন্দ খেতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। খেতের মধ্যে যে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে ছিল, তা তিনি খেয়াল করেননি। পরে তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে চাচাতো ভাই শাহাবুদ্দিনও প্রাণ হারান।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) এস এম নাছির উদ্দীন বলেন, 'এটি একটি দুর্ঘটনা। দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা শুনেছি। ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
Copyright © 2026 Ajker Dhara 24. All rights reserved.