সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ আবদুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পথচারীসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কলেজের সামনে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে কয়েক দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের লোকজনকে পরস্পরকে ধাওয়া করতে দেখা যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় লোকজন ও কলেজ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই পক্ষ পৃথকভাবে নবীনদের স্বাগত জানাতে মিছিল বের করে। মিছিল দুটি গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে কাছাকাছি এলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে রূপ নেয়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় সড়কের ওপরও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে পথচারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষে দুই পক্ষের প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। তবে আহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও তাদের চিকিৎসার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল। পৃথক নবীনবরণ মিছিলকে ঘিরে সেই উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার পর সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক ও ছাতক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের উভয় দিকে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ছাতক থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ভক্ত চন্দ্র দত্ত বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনা থাকলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরবর্তী বিস্তারিত জানানো হবে।



















